
বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বে অষ্টম এবং এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশে ১৮ বছরের আগে অর্থাৎ বাল্যবিয়ে হয় ৫১ শতাংশ মেয়ের। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার (৮ মার্চ) প্রকাশিত ইউনিসেফ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ও ইউএন উইমেনের যৌথ প্রতিবেদন ‘গার্লস গোলস: হোয়াট হ্যাজ চেঞ্জড ফর গার্লস? অ্যাডোলেসেন্ট গার্লস রাইটস ওভার ৩০ ইয়ার্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৫১ দশমিক ৪ শতাংশের বিয়ে হয় ১৮ বছর হওয়ার আগে। এর চেয়েও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তাদের মধ্যে ২৪ শতাংশ ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সন্তান জন্ম দেয়। এছাড়া, বাংলাদেশি নারীদের মাত্র ৪৭ শতাংশ নিজেদের প্রজনন স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্বজুড়ে নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার সংরক্ষণে কাজ করা সংস্থাগুলো বলছে, কিশোরী মেয়েদের ক্ষমতায়নে বিনিয়োগ ও নীতি পরিবর্তনই পারে বাল্যবিয়ের হার কমাতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে রোধে বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা থাকলেও এর কার্যকারিতা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণেই এখনো অনেক পরিবার মেয়েদের অল্প বয়সেই বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।